অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া বন্ধ করার ১০টি গোপন সেটিংস
আমরা যখন ঘুম থেকে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার আগেই মোবাইলের ১০০% চার্জ করে বের হলেন, কিন্তু দুপুর গরাতে না গড়াতেই দেখি ব্যাটারি চার্জ ২০% এর নিচে নেমে এসেছে।
দেখেন আপনি কোন ভারী কোন গেম খেলেননি বা টানা কোন ভিডিও দেখেননি কিন্তু আপনি হঠাৎ, দেখতেছেন যে আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ফোন, ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হলো, মোবাইল ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার সমস্যার কারণ।
আসলে আমরা অনেকে মনে করি যে মোবাইলের ফোনের ব্যাটারি হয়তো নষ্ট হয়ে গেছে তাই এ কথা ভেবে, সাথে সাথে সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে ব্যাটারি চেঞ্জ হয়ে পরিবর্তনের কথা ভাবি।
কিন্তু বাস্তবে 90 ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে মোবাইল ফোনের ভিতরে থাকা কিছু ,অপ্রয়োজনীয় ব্রাক ফিচার বা এবং ভুল সেটিং কারণে আপনার অজান্তে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে আপনি কি তা জানেন?।
আজকের মোবাইল ফোনের এই গাইডের আমরা জানবো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের এমন ১০ টি,
গোপন সেরা সেটিং সম্পর্কে যা পরিবর্তন করলে আপনার মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ আগের চেয়ে অন্তত ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত বেড়ে যাবে।
ফোন ব্যবহার না করলেও চার্জ কেন দ্রুত শেষ হয়?
মূল সেটিংসে যাওয়ার আগে সংক্ষেপে বুঝে নেওয়া যাক কেন আমাদের ফোনের চার্জ একা একাই ফুরিয়ে যায়:
১. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি: আমরা যখন কোনো অ্যাপ থেকে বের হয়ে আসি, অ্যাপটি কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ হয় না। সেটি ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং ইন্টারনেট ও প্রসেসর ব্যবহার করে চার্জ টানতে থাকে।
২. দুর্বল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল: আপনার এলাকায় যদি সিমের নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকে, তবে ফোনটি টাওয়ার খোঁজার জন্য সারাক্ষণ সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করে, যা ব্যাটারি দ্রুত শেষ করার অন্যতম প্রধান কারণ। (আপনার ফোনে যদি প্রায়ই সিগন্যালের সমস্যা হয়।
৩. উচ্চ রিফ্রেশ রেট ও ব্রাইটনেস: বর্তমানের ফোনগুলোতে 90Hz বা 120Hz ডিসপ্লে থাকে, যা সারাক্ষণ চালু থাকলে সাধারণের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যাটারি খরচ করে।
ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া বন্ধ করার ১০টি কার্যকরী সেটিংস
কোন অ্যাপ সবচেয়ে বেশি চার্জ খাচ্ছে তা খুঁজে বন্ধ করুন
সবার আগে আমাদের দেখতে হবে ফোনের ভেতর কোন অ্যাপটি চুপিসারে সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি নষ্ট করছে।
১. ফোনের Settings Battery (অথবা Battery and device care এ যান।
২. নিচে স্ক্রল করে Battery Usage অপশনে ট্যাপ করুন। এখানে আপনি গত ২৪ ঘণ্টায় কোন অ্যাপ কত শতাংশ চার্জ খরচ করেছে তার তালিকা দেখতে পাবেন।
৩. তালিকায় যদি এমন কোনো অ্যাপ দেখেন যা আপনি খুব কম ব্যবহার করেন কিন্তু সেটি প্রচুর চার্জ খাচ্ছে, তবে সেটির ওপর ক্লিক করে Background restriction বা Put app to sleep করে দিন।
স্ক্রিন রিফ্রেশ রেট (Screen Refresh Rate) স্ট্যান্ডার্ড রাখুন
নতুন স্মার্টফোনগুলোতে স্ক্রলিং স্মুথ করার জন্য 120Hz বা 90Hz রিফ্রেশ রেট দেওয়া থাকে। আপনি যদি গেমার না হন, তবে এটি আপনার ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু।
ফোনের Settings Display Motion smoothness বা Screen refresh rate এ যান। সেখানে 120Hz/High-এর বদলে 60Hz (Standard) অথবা Auto/Adaptive সিলেক্ট করে দিন।
শুধুমাত্র এই একটি সেটিংসেই আপনার ফোনের চার্জ অন্তত ২০% বেশি টিকবে।
ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ স্ক্যানিং (Wi-Fi & Bluetooth Scanning) বন্ধ করুন
আপনি হয়তো ফোনের ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ অফ করে রেখেছেন, কিন্তু জানেন কি আপনার ফোনটি তবুও ব্যাকগ্রাউন্ডে আশেপাশের ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ ডিভাইস সারাক্ষণ খুঁজতে থাকে?
১. ফোনের Settings থেকে Location অপশনে যান।
২. সেখানে Location Services বা Wi-Fi and Bluetooth scanning নামে একটি অপশন পাবেন।
৩. ভেতরে ঢুকে Wi-Fi scanning এবং Bluetooth scanning দুটি অপশনই অফ (Off) করে দিন।
ডার্ক মোড (Dark Mode) ব্যবহার করার অভ্যাস করুন
বর্তমানের বেশিরভাগ ফোনেই AMOLED বা Super AMOLED ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তির ডিসপ্লেতে কালো রঙ দেখানোর সময় পিক্সেলগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, ফলে কোনো ব্যাটারি খরচ হয় না।
ফোনের Settings Display-তে গিয়ে Dark Mode অন করে দিন। দিনের বেলায় অসুবিধা হলে অন্তত সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত Scheduled Dark Mode চালু রাখুন।
এতে চোখের পাশাপাশি ব্যাটারিও সুরক্ষিত থাকবে।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন ও অটো-সিঙ্ক বন্ধ করুন
সারাদিন ফোনে শত শত অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন আসতে থাকলে বারবার ফোনের স্ক্রিন জ্বলে ওঠে এবং ইন্টারনেট ডেটা খরচ হয়।
Settings Notifications App notifications এ যান। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা জরুরি অ্যাপ ছাড়া শপিং অ্যাপ, গেমস ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন। এছাড়া নোটিফিকেশন প্যানেলে থাকা Auto-Sync অপশনটি সবসময় চালু না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
লোকেশন (GPS) পারমিশন নিয়ন্ত্রণ করুন
ফোনের জিপিএস (Location) সেন্সর প্রচুর ব্যাটারি খরচ করে। অনেক সাধারণ অ্যাপ (যেমন: ক্যামেরা, শপিং অ্যাপ বা গেম) অকারণেই আপনার লোকেশন সারাক্ষণ ট্র্যাক করতে থাকে।
Settings Location App location permissions-এ যান। সেখানে Allowed all the time তালিকায় থাকা অ্যাপগুলোতে ক্লিক করে Allow only while using the app (শুধুমাত্র অ্যাপ ব্যবহারের সময় চালু থাকবে) করে দিন।
আর গুগল ম্যাপস বা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার শেষ হলেই ফোনের Location আইকনটি অফ করে রাখুন।
Always On Display (AOD) ফিচারটি অফ রাখুন
ফোন লক থাকা অবস্থায় কালো স্ক্রিনে ঘড়ি, তারিখ ও নোটিফিকেশন ভেসে থাকার ফিচারটিকে বলে Always On Display।
এটি দেখতে সুন্দর লাগলেও প্রতি ঘণ্টায় আপনার ফোনের ১% থেকে ২% চার্জ নষ্ট করে।
ফোনের Settings Lock screen >Always On Display তে গিয়ে এটি Off করে দিন, অথবা Tap to show for 10 seconds (ট্যাপ করলে ১০ সেকেন্ড দেখাবে) অপশনটি চালু রাখুন।
অ্যাডাপ্টিভ ব্যাটারি (Adaptive Battery) চালু করুন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ভিত্তিক একটি চমৎকার ফিচার রয়েছে, যা আপনার ফোন ব্যবহারের ধরন বুঝে কম ব্যবহৃত অ্যাপগুলোর পাওয়ার সাপ্লাই নিয়ন্ত্রণ করে।
Settings Battery Background usage limits অথবা Adaptive preferences-এ যান।
সেখানে থাকা Adaptive Battery অপশনটি অন (On) করে দিন।
স্ক্রিন টাইমআউট (Screen Timeout) কমিয়ে দিন
ফোনের স্টোরেজ খালি রাখুন এবং সফটওয়্যার আপডেট করুন
কোন সেটিংস পরিবর্তনে কতটুকু ব্যাটারি সাশ্রয় হয়?
| সেটিংসের নাম | ব্যাটারির ওপর প্রভাব | আমাদের পরামর্শ |
| Screen Refresh Rate (120Hz থেকে 60Hz) | অত্যন্ত বেশি (১৫% - ২০% সাশ্রয়) | সাধারণ ব্যবহারে 60Hz বা Auto রাখুন |
| Dark Mode (AMOLED ডিসপ্লেতে) | অনেক বেশি (১০% - ১৫% সাশ্রয়) | সবসময় বা অন্তত রাতে চালু রাখুন |
| Background App Restriction | মাঝারি থেকে বেশি (১০% সাশ্রয়) | অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ Sleep মোডে রাখুন |
| Location & Wi-Fi Scanning বন্ধ করা | মাঝারি (৫% - ১০% সাশ্রয়) | সবসময় অফ রাখা উচিত |
| Always On Display বন্ধ করা | মাঝারি (৫% - ৮% সাশ্রয়) | অফ রাখুন অথবা Tap to show দিন |
শেষ কথা
Community Q&A
2 QuestionsQ: সারারাত ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমালে কি ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়?
Q: ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হওয়ার সাথে কি চার্জারের কোনো সম্পর্ক আছে?
Did this step-by-step guide help you?