Samsung শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে না বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে স্যামসাং এবার তাদের নতুন যে মোবাইল ফোন আন্তর্জাতিক বাজারে খুব শীঘ্রই ছাড়বে বলে ঘোষণা দিয়েছে সেই মোবাইলটি হচ্ছে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা। আপনি যদি একজন samsung মোবাইল প্রেমে হয়ে থাকেন তাহলে এই মোবাইলটি অবশ্যই আপনার নজর কাটবে । আগামী দিনে সবথেকে শক্তিশালী ফোন Samsung Galaxy S27 Ultra নেওয়ার কথা ভেবে থাকেন, তবে প্রথমেই জানতে চাইবেন বাংলাদেশে এর সম্ভাব্য দাম কত এবং এতে নতুন কী কী পরিবর্তন আসছে?
আজকের এই পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা ফোনটির সম্ভাব্য বাজারদর, এর স্পেসিফিকেশন, ক্যামেরা টেকনোলজি এবং একজন মোবাইল ব্যবহারকারী হিসেবে এটি আপনার কেনা উচিত কি না তার একটি বিস্তারিত একটি গাইডলাইন নিচে তুলে ধরেছি।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা এক নজরে কিছু বিষয়
- প্রসেসর: Qualcomm Snapdragon 8 Elite Gen 6 Pro (2nm) ।
- ক্যামেরা: ২০০ MP মেইন + ৫০ MP জুম + ৫০ MP আল্ট্রাওয়াইড ।
- ব্যাটারি ও চার্জিং: ৫,৫০০-৬,০০০ mAh ব্যাটারি ও ৬৫W ফাস্ট চার্জিং ।
- এসডি কার্ড ও হেডফোন জ্যাক: কোনটিই নেই ।
- বক্সের চার্জার: এডাপ্টার নেই।
- সাইজ ও গ্রিপ: ৬.৯-ইঞ্চি বিশাল স্ক্রিন হওয়ায় এক হাতে গ্রিপ করা বা ব্যবহার করা কিছুটা কঠিন।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা Release Date
২০২৭ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে একটি গ্যালাক্সি আনপ্যাকড ইভেন্টে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা ফোনের দাম কত? (বাংলাদেশ ও গ্লোবাল প্রাইস)
যেহেতু এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে samsung galaxy s27 আল্ট্রা মোবাইল ফোন উন্মোচন হয়নি । তাই এর দাম নির্ধারিত বলা যাচ্ছে না । তবে ইন্টারনেটের কিছু কিছু জায়গা থেকে রিউমার ছড়িয়েছে সেই অনুপাতে নিচে সম্ভাব্য দাম তুলে ধরা হলো:
| ভ্যারিয়েন্ট (RAM + Storage) | গ্লোবাল সম্ভাব্য দাম | বাংলাদেশে সম্ভাব্য দাম (অফিশিয়াল/আনঅফিশিয়াল) |
| ১২ জিবি + ২৫৬ জিবি | $১,২৯৯ (প্রায়) | ৳১,৬০,০০০ – ৳১,৬৫,০০০ |
| ১৬ জিবি + ৫১২ জিবি | $১,৪৯৯ (প্রায়) | ৳১,৭০,০০০ – ৳১,৭৫,০০০ |
| ১৬ জিবি + ১ টিবি | $১,৭৯৯ (প্রায়) | ৳১,৮০,০০০ – ৳১,৮৫,০০০ |
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ সংক্ষিপ্ত স্পেসিফিকেশন
| ফিচার | বিবরণ |
| ডিসপ্লে | ৬.৯-ইঞ্চি QHD+ Dynamic AMOLED 2X, ১২০Hz LTPO, ৩০০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস |
| প্রসেসর | Qualcomm Snapdragon 8 Elite Gen 6 Pro (2nm) / Exynos 2700 |
| ক্যামেরা | ২০০ MP (মেইন) + ৫০ MP (আল্ট্রাওয়াইড) + ৫০ MP (টেলিফটো, ৫x অপটিক্যাল জুম) |
| ফ্রন্ট ক্যামেরা | ১৬ MP (আপগ্রেডেড সেন্সর) |
| র্যাম ও স্টোরেজ | ১২জিবি/১৬জিবি LPDDR6 RAM, ২৫৬জিবি/৫১২জিবি/১টিবি UFS 4.1 স্টোরেজ |
| ব্যাটারি | ৫,৫০০ mAh – ৬,০০০ mAh (सिलिकन-कार्बन টেকনোলজি) |
| চার্জিং | ৬৫W ওয়্যারড ফাস্ট চার্জিং, ২৫W Qi2 ওয়ারলেস চার্জিং |
| ওএস | Android 17, One UI 9.5 (৭ বছরের সিস্টেম ও সিকিউরিটি আপডেট) |
| অতিরিক্ত | ইনবিল্ট ব্লুটুথ S Pen, টাইটানিয়াম ফ্রেম, IP68 ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স |
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা মোবাইল রিভিউ: কী নতুন থাকছে?
বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইন
স্যামসাং তাদের ‘আল্ট্রা’ সিরিজের লুক আর ফিলিংস বেশ ক’বছর ধরেই প্রায় একই ধাঁচে রাখছে। তবে গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা হাত ধরেলে প্রথম ধাক্কাতেই যে জিনিসটা ফিল করবেন, তা হলো এর প্রিমিয়াম ভাবটা। বাইরে থেকে দেখতে হয়তো হুট করে আগের মডেলগুলোর মতোই মনে হতে পারে, কিন্তু বিল্ড কোয়ালিটিতে এবার সূক্ষ্ম অথচ দারুণ কিছু কাজ করা হয়েছে।
ফোনটির ফ্রেম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রেড-৫ টাইটানিয়াম (Grade 5 Titanium)। ধাতুর ভেতরে টাইটানিয়াম ব্যবহার করার সুবিধা হলো এটি দেখতে যেমন হেভি-ডিউটি ও গর্জিয়াস লাগে, তেমনি ওজনেও বেশ হালকা হয়। হাতে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখলেও বা এক হাতে ব্যবহার করলেও কবজি ব্যথা করার মতো অনুভূতি হবে না।
আর স্ক্রিন প্রটেকশনের জন্য সামনে ও পেছনে ব্যবহার করা হয়েছে নতুন জেনারেশনের গরিলা গ্লাস আর্মার ২ (Gorilla Glass Armor 2)। আমরা অনেকেই পকেটে চাবির রিং বা কয়েন রাখি, কিংবা দুর্ঘটনাবশত ফোন হাত থেকে ফ্লোরে পড়ে যায়। এই নতুন গ্লাস প্রটেকশন ফোনকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্ক্র্যাচ-প্রুফ করবে এবং দুম করে হাত থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
এবার আসা যাক এস পেন (S Pen) প্রসঙ্গে। যারা নোট নিতে ভালোবাসেন বা ফোনে টুকটাক ছবি-ভিডিও এডিট করেন, তাদের জন্য এস পেন এক কথায় ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ফোনের বডির ভেতরই চমৎকারভাবে স্পেস তৈরি করে বিল্ট-ইন এস পেন স্লট রাখা হয়েছে। ফলে আলাদা করে পেন ক্যারি করার কোনো ঝামেলাই নেই। যেকোনো সময় জাস্ট এক ক্লিকে পেনটি বের করে খুব দ্রুত আইডিয়া লিখে ফেলা, মিটিং নোট নেওয়া বা নিখুঁতভাবে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের কাজ অনায়াসেই সেরে ফেলা যায়।
এক কথায় বলতে গেলে, স্যামসাং ডিজাইনে রাতারাতি কোনো পাগলামি না করে তারা জোর দিয়েছে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ও স্থায়িত্বের ওপর। ফোনটি শক্তপোক্ত, প্র্যাকটিক্যাল এবং হাতে নিলে সত্যি সত্যি একটা লাক্সারি ফ্ল্যাগশিপের ফিল এনে দেয়।
ডিসপ্লে এক্সপেরিয়েন্স
একটি ডিসপ্লে কেমন, তা শুধু খাতায়-কলমে দেখার চেয়ে বাস্তবে ব্যবহারে কতটা চোখ জুড়ায় সেটাই মূল বিষয়। আর এই জায়গায় স্যামসাং বরাবরই বাকিদের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকে। গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা-র ডিসপ্লেতে হাত দিলেই আপনি বুঝবেন, স্যামসাং কেন ডিসপ্লে টেকনোলজির রাজা!
এখানে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির বিশাল Dynamic AMOLED 2X প্যানেল। ৬.৯ ইঞ্চি স্ক্রিন শুনে হয়তো আপনার কাছে একটু বেশিই বড় মনে হতে পারে, কিন্তু ডিসপ্লের চারপাশের বেজেলগুলো এতটাই পাতলা (Ultra-slim bezels) যে পুরো ফোনজুড়ে যেন শুধু স্ক্রিনটাই ভেসে থাকে। মুভি দেখা, ইউটিউবে ভিডিও চালানো বা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রোল করার এক্সপেরিয়েন্স এক কথায় অসাধারণ। কালার কনট্রাস্ট, ডিপ ব্ল্যাক আর কালার একিউরেসি এত নিখুঁত যে যেকোনো কন্টেন্ট দেখলেই চোখ আটকে যাবে।
রোদের মধ্যে বাইরে বের হলে আমরা অনেকেই ফোনের স্ক্রিন দেখতে গিয়ে হাত দিয়ে ছায়া করি বা ব্রাইটনেস সর্বোচ্চ বাড়িয়েও ঠিকমতো দেখতে পাই না। এই দিক থেকে স্যামসাং দুর্দান্ত একটি সমাধান এনেছে। এতে দেওয়া হয়েছে ৩,০০০ নিটস (Nits) পর্যন্ত পিক ব্রাইটনেস। আর তার সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রজন্মের Anti-reflective Coating। এর সুবিধা হলো, প্রখর রোদের মধ্যেও স্ক্রিনে আপনার নিজের মুখের ছায়া বা চারপাশের কোনো রিফ্লেকশন (আলোর প্রতিফলন) পড়বে না। ফলে কড়া রোদে দাঁড়িয়েও স্ক্রিনের ছোট ছোট লেখাও একদম পরিষ্কার পড়া যাবে।
এছাড়া গেমার এবং মাল্টিটাস্কারদের কথা চিন্তা করে এতে LTPO 1Hz থেকে 120Hz অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেট রাখা হয়েছে। যখন আপনি গেম খেলবেন বা স্ক্রোল করবেন, স্ক্রিন একদম মাখনের মতো স্মুথ (Smooth) রেসপন্স করবে। আবার যখন কোনো স্থির ছবি বা ট্যাক্সট পড়ে থাকবেন, তখন রিফ্রেশ রেট অটোমেটিক কমে ১Hz-এ চলে আসবে যা আপনার ফোনের ব্যাটারি বাঁচাতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।
এক কথায় বলতে গেলে, নেটফ্লিক্সে ৪কে (4K) মুভি দেখা থেকে শুরু করে চড়া রোদে ভারী গেম খেলা সব ধরনের ব্যবহারের জন্যই এই ডিসপ্লেটি ইন্ডাস্ট্রি-লিডিং এবং যেকোনো ইউজারের মন জয় করে নেওয়ার মতো।
প্রসেসর ও পারফর্ম্যান্স
স্যামসাংয়ের আল্ট্রা সিরিজ মানেই পারফর্ম্যান্সের দিক থেকে কোনো ধরনের আপস না করা। আর এই গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা-র ভেতরে যে পাওয়ারহাউজটা বসানো হয়েছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য!
এর মূল চালিকাশক্তি হলো কোয়ালকমের একদম নতুন Snapdragon 8 Elite Gen 6 Pro প্রসেসর, যা ২ ন্যানোমিটার (2nm) আর্কিটেকচারে তৈরি। সোজা ভাষায় বলতে গেলে, প্রসেসরের ন্যানোমিটার সাইজ যত ছোট হয়, ফোন তত বেশি শক্তিশালী হয় এবং পাওয়ার কনসাম্পশন (ব্যাটারির খরচ) তত কমে আসে। যার ফলে ফোন হেভি লোডে থাকলেও ব্যাটারি কিন্তু পানি মতো শেষ হবে না।
বাস্তব জীবনে এর পারফর্ম্যান্স কেমন হবে? ধরুন, আপনি ফোনে ভারী গেম খেলতে পছন্দ করেন যেমন Genshin Impact, Call of Duty কিংবা PUBG Mobile। আপনি সব গেমের গ্রাফিক্স একদম ‘Max Settings’-এ রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেললেও ফ্রেম ড্রপ বা কোনো ল্যাগ (Lag) পাওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। এমনকি গেম খেলার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে অন্য একাধিক ভারী অ্যাপ খোলা থাকলেও ফোন মোটেও হাঁপিয়ে উঠবে না।
অনেকেরই একটা বড় ভয় থাকে “এত পাওয়ারফুল প্রসেসর, ফোন কি গরম হয়ে যাবে?” স্যামসাং এবার তাদের হিটিং সিস্টেম বা কুলিং চেম্বারে বড় ধরনের আপগ্রেড এনেছে। ফলে ৮কে (8K) রেজোলিউশনে লম্বা ভিডিও এডিটিং ও রেন্ডারিং করা কিংবা একনাগাড়ে ক্যামেরা ব্যবহারে ফোন হালকা গরম হতে পারে, কিন্তু সেই অস্বস্তিকর ওভারহিটিং ইস্যু এবার একদমই থাকবে না।
এর সাথে যোগ হয়েছে অ্যাপলের চেয়েও আপগ্রেডেড অন-ডিভাইস Galaxy AI। এবার এআই (AI) শুধু সার্ভারের ওপর নির্ভর করে কাজ করবে না, প্রসেসরের নিজস্ব এনপিইউ (NPU) ব্যবহার করে সরাসরি ফোনেই কাজ করবে। অর্থাৎ, আপনি অফলাইনে থাকলেও ভয়েস ট্রান্সক্রিপশন, রিয়েল-টাইম কল অনুবাদ বা ছবি থেকে অপ্রয়োজনীয় বস্তু মুছে ফেলার মতো কাজগুলো একদম চোখের পলকে নিমেষেই হয়ে যাবে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, আপনি যদি এমন একজন ইউজার হন যিনি ফোনকে একদম নিংড়ে ব্যবহার করেন গেমিং, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন বা হেভি মাল্টিটাস্কিং তবে এই ফোনের স্পিড আর রেসপন্স আপনাকে বারবার মুগ্ধ করবে। এটি স্রেফ একটি ফোন নয়, যেন পকেটে নিয়ে ঘোরা একটা আস্ত মিনি সুপারকম্পিউটার!
ক্যামেরা আর্কিটেকচার
স্যামসাংয়ের ‘আল্ট্রা’ সিরিজের ক্যামেরা নিয়ে প্রত্যাশা সবসময়ই আকাশচুম্বী থাকে। আর সত্যি বলতে, গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা-র ক্যামেরা ডিপার্টমেন্টে স্যামসাং এবার যেসব পরিবর্তন এনেছে, তা শুধু মেগাপিক্সেলের সংখ্যা বাড়ানোতে সীমাবদ্ধ রাখেনি বরং ছবির টেক্সচার, আলো-ছায়ার ভারসাম্য এবং নাইট ফটোগ্রাফির অভিজ্ঞতায় এনেছে এক বড়সড় পরিবর্তন।
চলুন এর ক্যামেরা সেটআপের পেছনের আসল জাদুটা একটু বিস্তারিতভাবে বোঝা যাক:
২০০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা (LOFIC প্রযুক্তির ছোঁয়া)
২০০ মেগাপিক্সেলের নাম শুনে মনে হতে পারে এটা তো আগের মডেলেও ছিল! কিন্তু আসল খেলাটা লুকিয়ে আছে ভেতরে থাকা নতুন LOFIC (Lateral Overflow Integrated Capacitor) প্রযুক্তিতে। সহজ কথায় বলতে গেলে, এই টেকনোলজির কাজ হলো যেকোনো ছবিতে আলো আর ছায়ার অবিশ্বাস্য ব্যালেন্স তৈরি করা (Dynamic Range)।
যেমন ধরুন, আপনি এমন কোনো ব্যাকলাইটিংয়ে ছবি তুলছেন যেখানে পেছনের আকাশ খুব উজ্জ্বল কিন্তু আপনার মুখ কিছুটা অন্ধকার। সাধারণ ক্যামেরায় আকাশ দেখা গেলে মুখ কালচে হয়ে যায়, আবার মুখ পরিষ্কার তুললে আকাশ ধবধবে সাদা হয়ে যায়। কিন্তু এই সেন্সরটি দুই পাশের আলোকেই একদম পারফেক্টভাবে ধরে রাখে। এছাড়া রাতের বেলায় আলো স্বল্পতায় কম নোয়েজ (Noise) সহ চোখধাঁধানো ও নিখুঁত ছবি উপহার দেবে এই সেন্সর।
৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড সেন্সর
আগের জেনারেশনের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা নিয়ে অনেকেরই টুকটাক অভিযোগ ছিল যে ধারের দিকে ছবি কিছুটা ব্লার বা ডিটেইল কম আসে। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে বিশাল ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড সেন্সর। আপনি যখন কোনো বড় ট্রাভেল গ্রুপের ছবি তুলবেন কিংবা বিশাল কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য (Landscape) ফ্রেমবন্দী করবেন, ছবির একদম কোণায় থাকা ছোট ছোট জিনিসগুলোও সমান শার্প ও স্পষ্ট দেখাবে। আর এর অটোফোকাস সিস্টেমের জন্য অতি কাছের ম্যাক্রো ফটো (Macro Shot) তোলাও এখন আরও অনেক বেশি নিখুঁত।
৫০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপ টেলিফটো (৫x অপটিক্যাল জুম)
স্টেডিয়ামে বসে প্রিয় প্লেয়ারের ছবি তোলা বা দূর পাহাড়ের চুড়ো ফ্রেমে আনার জন্য এর জুম সেন্সরের জুড়ি নেই। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স, যা দিয়ে ৫ গুণ (5x) পর্যন্ত সরাসরি কোনো কোয়ালিটি লস ছাড়াই প্রিমিয়াম অপটিক্যাল জুম পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, এআই (AI) অ্যালগরিদমের সহায়তায় ১০x, ৩০x এমনকি ১০০x ডিজিটাল জুমেও ছবির ডিটেইল নষ্ট হয় না বললেই চলে। দূরের অবজেক্টকেও মনে হবে একদম চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে!
প্রাকৃতিক স্কিন টোন ও প্রফেশনাল কালার গ্রেডিং
ছবি তোলার পর অনেক সময় মনে হয় স্যামসাং ফোনগুলো চেহারা অতিরিক্ত ফর্সা বা মসৃণ করে ফেলে। কিন্তু এই ক্যামেরায় স্যামসাং তাদের পোস্ট-প্রসেসিং অনেক বেশি ন্যাচারাল রেখেছে। মানুষের গায়ের আসল রং এবং কাপড়ের টেক্সচার একদম যেমন, ছবিতেও ঠিক তেমনই ফুটে উঠবে।
এক কথায় বলতে গেলে, আপনি যদি একজন প্রফেশনাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হন বা ভ্রমণের স্মৃতি সুন্দর করে ফ্রেমবন্দী করতে ভালোবাসেন, তবে আপনার সাথে ভারী ডিএসএলআর (DSLR) ক্যামেরা বয়ে নিয়ে বেড়ানোর আর কোনো দরকারই পড়বে না। এই একটি ফোনই আপনার পকেটে আস্ত একটা স্টুডিওর কাজ চালিয়ে দেবে!
ব্যাটারি ও চার্জিং স্পিড
স্মার্টফোন যত শক্তিশালীই হোক না কেন, দিনশেষে চার্জ যদি দ্রুত শেষ হয়ে যায় কিংবা চার্জে বসিয়ে ঘণ্টা পার করে দিতে হয়, তবে ব্যবহারের আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়। স্যামসাংপ্রেমীদের বহুদিনের একটা বড় দাবি ছিল ব্যাটারি ক্যাপাসিটি আর চার্জিং স্পিড বাড়ানো। অবশেষে গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা-তে স্যামসাং সেই জায়গাটিতে সত্যি সত্যি একটি বড় চমক নিয়ে আসছে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এর ব্যাটারি ও চার্জিং সেকশনের বিস্তারিত:
সিলিকন-কার্বন টেকনোলজি ও বিশাল ৫,৫০০–৬,০০০ mAh ব্যাটারি
আমরা এতদিন যেসব ফোনে ব্যাটারি দেখে এসেছি, তার বেশিরভাগই ছিল প্রথাগত লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম-পলিমার। কিন্তু এবার স্যামসাং ব্যবহার করছে একদম নতুন Silicon-Carbon (সিলিকন-কার্বন) ব্যাটারি টেকনোলজি। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো ব্যাটারির ফিজিক্যাল আকার বা পুরুত্ব না বাড়িয়েই এর ভেতরে অনেক বেশি শক্তি (Capacity) ধরে রাখা যায়।
ফলে ফোনটি হাতে নিতে কিন্তু মোটা বা ভারী মনে হবে না, অথচ ভেতরে থাকছে বিশাল ৫,৫০০ থেকে ৬,০০০ mAh-এর ব্যাটারি। বাস্তব জীবনে এর ব্যাকআপ কেমন হবে? আপনি যদি প্রফেশনাল কাজে সারা দিন ফাইভ-জি (5G) ডেটা অন রাখেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইউটিউবে ভিডিও দেখেন, চড়া রোদে ক্যামেরা ব্যবহার করেন আর মাঝরাতে হেভি গেমও খেলেন তাও দিনশেষে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চার্জার খোঁজার দরকার পড়বে না। সাধারণ থেকে মাঝারি ব্যবহারে এটি অনায়াসে প্রায় দেড় থেকে দুই দিন পর্যন্ত টিকে যাবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: ৬৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং Support
স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বড় কৃপণতা ছিল তাদের চার্জিং স্পিডে। যেখানে চাইনিজ ব্র্যান্ডগুলো ১০০-১২০ ওয়াট দিয়ে বাজার মাত করছিল, সেখানে স্যামসাং বহু বছর ধরে সেই ৪৫ ওয়াটেই আটকে ছিল। তবে সুখবর হলো, এস২৭ আল্ট্রা-তে অবশেষে আসতে চলেছে ৬৫ ওয়াট (65W) ফাস্ট চার্জিং Support।
৬৫ ওয়াট পাওয়ার ডেলভারি (PD 3.0) থাকার কারণে এই বিশাল ব্যাটারিটাও শূন্য থেকে ৫০% চার্জ হতে সময় নেবে আনুমানিক ১৫ থেকে ১৮ মিনিটের মতো। আর পুরো ১০০% ফুল চার্জ হতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট। অর্থাৎ সকালে ঘুম থেকে উঠে রেডি হওয়ার ফাঁকে ফোন চার্জে দিলেই সারাদিনের জন্য ব্যাকআপ রেডি!
ওয়ারলেস চার্জিং ও অন্যান্য সুবিধা
তারযুক্ত চার্জিংয়ের পাশাপাশি এতে থাকছে আধুনিক Qi2 standard 25W Wireless Charging সাপোর্ট। অর্থাৎ ম্যাগনেটিক ওয়ারলেস চার্জারের সাহায্যে কোনো ঝামেলা ছাড়াই খুব দ্রুত ফোন চার্জ দেওয়া যাবে। এছাড়া এতে উন্নত রিভার্স ওয়ারলেস চার্জিং সুবিধাও থাকছে, যা দিয়ে আপনার গ্যালাক্সি বাডস বা স্মার্টওয়াচ ফোনে ঠেকিয়েই চার্জ করে নেওয়া সম্ভব।
সব মিলিয়ে বলতে গেলে, ব্যাটারি ড্রেন হওয়া বা চার্জিংয়ের ধীরগতি নিয়ে যাদের মনে সবসময় একটা খিটখিটে ভয় কাজ করত, গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা সেই চিন্তাকে একবারে পুরোপুরি ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা এর ভালো ও মন্দ দিক
প্লাস পয়েন্ট (Pros):
- শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৬ প্রসেসর।
- টপ-নচ ২০০ মেগাপিক্সেল ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ।
- ইনবিল্ট ব্লুটুথ S Pen এর সুবিধা।
- বাজারের সেরা AMOLED ডিসপ্লে ও অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ প্রটেকশন।
- দীর্ঘমেয়াদী ৭ বছরের সফটওয়্যার আপডেট সাপোর্ট।
মাইনাস পয়েন্ট (Cons):
- দাম বেশ চড়া, যা সবার সাধ্যের বাইরে।
- মাইক্রো-এসডি (MicroSD) কার্ড স্লট নেই।
- ৩.৫ মিমি অডিও জ্যাক অনুপস্থিত।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা এর সাথে অন্য দুটি ফোনের তুলনা
তিনটি ফ্ল্যাগশিপ মোবাইল ফোনের মূল পার্থক্য ও ফিচারগুলো নিচে একটি সহজ টেবিল বা ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো এতে করে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে:
| ফিচার / ক্যাটাগরি | Samsung Galaxy S27 Ultra | iPhone 17 Pro Max | Xiaomi 15 Ultra |
| ডিসপ্লে | ৬.৯-ইঞ্চি Dynamic AMOLED 2X, 3000 nits, Anti-reflective Glass | ৬.৯-ইঞ্চি Super Retina XDR OLED, Ceramic Shield | ৬.৭৩-ইঞ্চি LTPO AMOLED, 3000+ nits |
| প্রসেসর | Snapdragon 8 Elite Gen 6 Pro (2nm) | Apple A19 Pro (3nm) | Snapdragon 8 Elite |
| প্রধান ক্যামেরা | ২০০ MP (LOFIC প্রযুক্তি সহ) | ৪৮ MP (Fusion Sensor) | ৫০ MP (১-ইঞ্চি Leica সেন্সর) |
| জুম ক্যামেরা | ৫০ MP পেরিস্কোপ (5x Optical, 100x Digital) | ৪৮ MP পেরিস্কোপ (5x Optical Zoom) | ৫০ MP (4.3x Optical, 120x Digital) |
| আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা | ৫০ MP (Autofocus & Macro) | ৪৮ MP Ultrawide | ৫০ MP Ultrawide |
| বিশেষ স্টাইলাস/বাটন | বডিতে বিল্ট-ইন S Pen | Action Button ও Camera Control Button | কাস্টম ক্যামেরা কিট ও ফিজিক্যাল গ্রিপ |
| ব্যাটারি টেকনোলজি | ৫,৫০০–৬,০০০ mAh (Silicon-Carbon) | ৪,৮০০–৫,০০০ mAh (Anode) | ৫,৪০০–৫,৮০০ mAh (Silicon-Anode) |
| চার্জিং স্পিড | ৬৫W ওয়্যারড, ২৫W Qi2 ওয়ারলেস | ৩৫W ওয়্যারড, ১৫W MagSafe | ৯০W–১২০W ওয়্যারড, ৫০W ওয়ারলেস |
| অপারেটিং সিস্টেম | Android 17 (One UI 9.5) | iOS 20 | Android 15/16 (HyperOS) |
| অফিশিয়াল আপডেট সাপোর্ট | ৭ বছর (OS ও Security) | ৫-৬ বছর | ৪-৫ বছর |
| বিল্ড ম্যাটেরিয়াল | Grade 5 Titanium Frame & Armor Glass 2 | Titanium Frame & Ceramic Shield | Ceramic / Eco-Leather & Aluminum |
| কার জন্য সেরা? | মাল্টিটাস্কিং, এস-পেন ইউজার, ক্রিয়েটর ও জুম ফটোগাফির জন্য | লং-টার্ম স্টেবিলিটি, ভিডিওগ্রাফি ও ইকোসিস্টেম লাভারদের জন্য | ফাস্ট চার্জিং ও ডিএসএলআর-লাইক লেইকা কালার টোনের জন্য |
আমাদের মতামত:
আপনি যদি একজন প্রফেশনাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ফটোগ্রাফার বা হেভি গেমার হন এবং বাজেটের কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকে, তবে Samsung Galaxy S27 Ultra আপনার জন্য একটি ট্রু-ফ্ল্যাগশিপ প্যাকেজ হতে চলেছে। তবে আপনার যদি অলরেডি Galaxy S25 Ultra বা S26 Ultra থাকে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আপগ্রেড না করলেও চলবে।
Samsung Galaxy S27 Ultra সাধারণ প্রশ্ন আমাদের উত্তর
Samsung Galaxy S27 Ultra বাংলাদেশে দাম কত?
বাংলাদেশে কেন এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বের কোথাও এই ফোন লঞ্চ হয়নি । তাই এর নির্ধারিত কোন দাম বলার সুযোগ নেই । তবে ইন্টারনেট থেকে তথ্য রিউমার যা ছড়িয়েছে তা থেকে আনুমানিক ধারণা করা যায় 160,000 -180,000 টাকার ভিতর পাওয়া যাবে।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা কবে অফিশিয়ালি লঞ্চ হবে?
স্যামসাং সাধারণত বছরের প্রথম দিকে তাদের এস-সিরিজ লঞ্চ করে। সেই হিসেবে স্যামসাঙ গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা ২০২৭ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে উন্মোচন হতে পারে।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা ফোনে কি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করা যাবে?
না, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা ফোনে কোনো এক্সটার্নাল এসডি কার্ড স্লট থাকছে না। তবে ইনবিল্ট স্টোরেজ ২৫৬ জিবি থেকে ১ টিবি পর্যন্ত বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ফোনটিতে কি ওয়াটারপ্রুফ সুবিধা রয়েছে?
হ্যাঁ, এটি IP68 রেটিং প্রাপ্ত, অর্থাৎ ১.৫ মিটার পানির নিচে প্রায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবে।
TechieIn was founded by MD BELAL, a tech enthusiast driven by a passion for digital innovation and storytelling. With a vision to create a reliable hub for tech lovers, Belal ensures that every piece of content shared here is valuable, timely, and easy to understand.
Thank you for being part of our community. Stay connected, stay updated!