বাসার জন্য সেরা ওয়াইফাই রাউটার কেনার আগে যে বিষয়গুলো দেখা জরুরি
বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও কাজ ইন্টারনেট ছাড়া এক মুহূর্তও কল্পনা করা যায় না।
আর ভালো ইন্টারনেটের মূল চাবিকাঠি হলো একটি শক্তিশালী ও মানসম্মত ওয়াইফাই রাউটার (Wi-Fi Router)। বাজারে গেলে ৩ থেকে ২০ হাজার টাকার নানা ব্র্যান্ডের (TP-Link, Tenda, ASUS, Xiaomi ইত্যাদি) রাউটার দেখতে পাওয়া যায়।
কিন্তু না বুঝে হুট করে যেকোনো একটি রাউটার কিনে ফেললে দেখা যায় ড্রয়িংরুমে স্পিড পেলেও বেডরুমে নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না, কিংবা একাধিক ডিভাইস কানেক্ট করলেই রাউটার হ্যাং করছে!
একটি সঠিক রাউটার আপনার ইন্টারনেটের পূর্ণ গতি উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়। আজকের এই পোস্টে আমরা জানব বাসা বা ছোট অফিসের জন্য সেরা ওয়াইফাই রাউটার কেনার আগে কোন গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল বিষয়গুলো আপনার অবশ্যই যাচাই করা উচিত।
রাউটার কেনার আগে যে ৪টি টেকনিক্যাল বিষয় মাথায় রাখবেন
দোকানে গিয়ে শুধু রাউটারের বাহ্যিক সৌন্দর্য বা অ্যান্টেনার সংখ্যা না দেখে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে কিনুন:
সিঙ্গল-ব্যান্ড (Single-Band) বনাম ডুয়াল-ব্যান্ড (Dual-Band)
বাজার থেকে রাউটার কেনার সময় সবচেয়ে বড় যে ভুলটি মানুষ করে তা হলো পুরোনো প্রযুক্তির সিঙ্গল-ব্যান্ড রাউটার কেনা।
সিঙ্গল-ব্যান্ড (2.4 GHz): এই রাউটারগুলো সস্তা হয়, কিন্তু এগুলোর স্পিড কম এবং ঘরের অন্যান্য ডিভাইসের কারণে সিগন্যালে জ্যাম তৈরি হয়।
ডুয়াল-ব্যান্ড (Dual-Band - 2.4 GHz & 5 GHz): বর্তমান সময়ে সবসময় ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটার কেনা উচিত। এতে দুটি ফ্রিকোয়েন্সি থাকে। 2.4 GHz দূরের ঘরের জন্য ভালো রেঞ্জ দেয় এবং 5 GHz আপনার রুমের কাছাকাছি থাকা ডিভাইসগুলোতে রকেটের মতো সুপার-ফাস্ট স্পিড দেয়।
রাউটারের স্পিড রেটিং (AC1200 বা AX1500)
রাউটারের বাক্সে বা নামের পাশে ছোট করে কিছু কোড লেখা থাকে, যেমন: AC1200, AX1500 ইত্যাদি। এগুলো দিয়ে রাউটারের ডাটা ট্রান্সফার স্পিড বোঝানো হয়।
Wi-Fi 5 (AC standard): সাধারণ ব্যবহার ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের জন্য AC1200 বা তার বেশি গতির রাউটারগুলো যথেষ্ট ভালো পারফরম্যান্স দেয়।
Wi-Fi 6 (AX standard): আপনার ইন্টারনেট স্পিড যদি ১০০ এমবিপিএস (100 Mbps) বা তার বেশি হয় এবং বাসায় যদি অনেকগুলো স্মার্ট ডিভাইস থাকে, তবে আধুনিক প্রযুক্তির Wi-Fi 6 রাউটার কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
গিগাবিট পোর্ট (Gigabit Ports) আছে কি না?
আপনার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রোভাইডার যদি আপনাকে ১০০ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির (যেমন: ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস) লাইন দেয়, তবে আপনার রাউটারে অবশ্যই Gigabit Ethernet Ports থাকতে হবে। রাউটারের পেছনে যে ল্যান (LAN) ও ওয়ান (WAN) পোর্ট থাকে, সেগুলো যেন অন্তত ১০০০ এমবিপিএস ডাটা ট্রান্সফার সাপোর্ট করে তা নিশ্চিত করুন।
অ্যান্টেনার সংখ্যা এবং কভারেজ এরিয়া
অনেকে মনে করেন রাউটারে যত বেশি অ্যান্টেনা থাকবে, ইন্টারনেট স্পিড তত বেশি হবে। এটি একটি ভুল ধারণা। অ্যান্টেনার সংখ্যার সাথে স্পিডের চেয়ে কভারেজ বা সিগন্যাল কোন দিকে ছড়াবে তার সম্পর্ক বেশি। বড় বাসার জন্য অন্তত ৩ বা ৪টি অ্যান্টেনা অথবা ভালো গেইনের (Gain) এক্সটার্নাল অ্যান্টেনাওয়ালা রাউটার বেছে নেওয়া উচিত।
রুমের আকার ও বাজেট অনুযায়ী রাউটার সিলেকশন গাইড
| ঘরের ধরন ও বাজেট | কোন ধরনের রাউটার কিনবেন? | আনুমানিক বাজেট |
| ছোট বাসা / ১-২ রুম | Dual-Band AC1200 (যেমন: TP-Link Archer C6) | ১,৮০০ - ২,৫০০ টাকা |
| মাঝারি বাসা / ৩-৪ রুম | Wi-Fi 6 বা শক্তিশালী 4-Antenna রাউটার | ৩,০০০ - ৫,৫০০ টাকা |
| বড় ডুপ্লেক্স বাসা / অফিস | Mesh Wi-Fi System বা হাই-এন্ড রাউটার | ৮,০০০ টাকা বা তার বেশি |
শেষকথা
Community Q&A
2 QuestionsQ: রাউটারের অ্যান্টেনা বড় হলে কি ওয়াইফাই সিগন্যাল বেশি দূর যায়?
Q: ব্রডব্যান্ড লাইনের জন্য কি টিপি-লিংক (TP-Link) নাকি টেন্ডা (Tenda) রাউটার ভালো?
Did this step-by-step guide help you?